সিরিজ এবং প্যারালাল সার্কিট

ইলেকট্রিক সার্কিটস এবং নেটওয়ার্ক থিওরি (Electric Circuits and Network Theory) - নেটওয়ার্ক থিওরি (Network Theory) - Computer Science

2.4k

সিরিজ সার্কিট

সিরিজ সার্কিটে, সকল উপাদান (যেমন, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটার, ইন্ডাক্টর) একটির পর একটি সংযুক্ত থাকে এবং পুরো সার্কিটে শুধুমাত্র একটি পথ থাকে। এই ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ একটিমাত্র পথ দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সমস্ত উপাদানের মধ্য দিয়ে একটিমাত্র ধারা প্রবাহিত হয়।


সিরিজ সার্কিটের বৈশিষ্ট্য

  1. সমান বর্তমান (Current): সিরিজ সার্কিটে প্রত্যেক উপাদানের মধ্য দিয়ে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
  2. সমষ্টিগত প্রতিরোধ (Total Resistance): সার্কিটের প্রতিটি রেজিস্টরের প্রতিরোধ যোগ করে মোট প্রতিরোধ নির্ণয় করা হয়। অর্থাৎ, মোট প্রতিরোধ \( R_{total} = R_1 + R_2 + R_3 + \ldots \)।
  3. ভোল্টেজ ড্রপ (Voltage Drop): প্রত্যেক উপাদানে আলাদা আলাদা ভোল্টেজ ড্রপ থাকে, যা যোগ করলে উৎস ভোল্টেজ পাওয়া যায়।
  4. কার্যক্ষমতা: একটি উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো সার্কিট অকার্যকর হয়ে পড়ে, কারণ বর্তমানের জন্য অন্য কোনো পথ থাকে না।

সিরিজ সার্কিটের উদাহরণ

সিরিজ সার্কিটের সাধারণ উদাহরণ হলো ফ্ল্যাশলাইট বা ব্যাটারি পরিচালিত যেকোনো সহজ সার্কিট, যেখানে প্রতিটি উপাদান একের পর এক সংযুক্ত থাকে।


প্যারালাল সার্কিট

প্যারালাল সার্কিটে, উপাদানগুলো একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়ে সংযুক্ত থাকে এবং প্রতিটি উপাদান একটি আলাদা পথ বা শাখায় অবস্থান করে। ফলে সার্কিটে একাধিক বিদ্যুৎ প্রবাহের পথ থাকে এবং প্রতিটি শাখার উপর নিজস্ব ভোল্টেজ থাকে।


প্যারালাল সার্কিটের বৈশিষ্ট্য

  1. সমান ভোল্টেজ (Voltage): প্যারালাল সার্কিটে প্রতিটি শাখায় একই পরিমাণ ভোল্টেজ থাকে যা উৎস ভোল্টেজের সমান।
  2. সমষ্টিগত প্রতিরোধ (Total Resistance): প্যারালাল সার্কিটে মোট প্রতিরোধ কমে যায়, এবং এটি নির্ণয় করা হয় নিচের সমীকরণে:
    \[ \frac{1}{R_{total}} = \frac{1}{R_1} + \frac{1}{R_2} + \frac{1}{R_3} + \ldots \]
  3. বর্তমানের বিভাজন (Current Division): বিভিন্ন শাখায় ভিন্ন ভিন্ন বর্তমান প্রবাহিত হয়, এবং মোট বর্তমান সমস্ত শাখার বর্তমানের যোগফল।
  4. কার্যক্ষমতা: একটি উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সার্কিটের অন্য শাখাগুলি কাজ চালিয়ে যেতে পারে, কারণ প্রতিটি শাখার জন্য আলাদা আলাদা পথ থাকে।

প্যারালাল সার্কিটের উদাহরণ

প্যারালাল সার্কিটের একটি সাধারণ উদাহরণ হলো বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি আলোর বাল্ব, পাখা বা অন্যান্য সরঞ্জাম আলাদা আলাদা পথে বিদ্যুৎ সংযোগ পায়।


তুলনামূলক পার্থক্য

বৈশিষ্ট্যসিরিজ সার্কিটপ্যারালাল সার্কিট
বর্তমানসমান, প্রতিটি উপাদানে একই বর্তমান প্রবাহিত হয়।শাখাগুলিতে ভিন্ন, প্রতিটি শাখায় ভিন্ন বর্তমান প্রবাহিত হয়।
ভোল্টেজপ্রতিটি উপাদানে ভোল্টেজ বিভাজিত হয়।প্রতিটি শাখায় উৎস ভোল্টেজ সমান থাকে।
মোট প্রতিরোধপ্রতিরোধ যোগ করে পাওয়া যায়, বেশি হয়।প্রতিরোধ কমে যায়, প্যারালাল হিসেবে যোগ করে পাওয়া যায়।
কার্যক্ষমতাএকটি উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সার্কিট বন্ধ হয়ে যায়।একটি উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সার্কিট চালু থাকে।

সারসংক্ষেপ:
সিরিজ সার্কিট এবং প্যারালাল সার্কিট উভয়ই বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে তাদের গঠন এবং বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। সিরিজ সার্কিটে প্রতিটি উপাদান একটিমাত্র পথে সংযুক্ত থাকে, যেখানে প্যারালাল সার্কিটে প্রতিটি উপাদানের জন্য আলাদা শাখা থাকে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...